যারা বাটন ফোন ব্যবহার করেন তারা সহজেই বাটন ফোন ব্যবহার করেই বিকাশ একাউন্টের টাকা দেখতে পারবেন। বর্তমানে অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, তারা চাইলে বাটন ফোনে বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স চেক করতে পারেন।
খুব সহজেই কয়েকটি পদ্ধতিতে বাটন ফোনে বিকাশের টাকা দেখা যায়। সেই পদ্ধতি গুলোই আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে জানানো হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক বাটন ফোনে বিকাশে টাকা দেখার নিয়ম।
বাটন ফোনে বিকাশে টাকা দেখার নিয়ম
আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা বাটন মোবাইল ব্যবহার করে থাকে। তাদের ক্ষেত্রে বাটন মোবাইলেই বিকাশে টাকা দেখতে হয়।
অবশ্যই পড়বেনঃ
- গাড়ির নাম্বার দিয়ে মালিকের নাম বাংলাদেশ বের করার সহজ নিয়ম
- ২৪০ টাকা ফ্রী বিকাশ পেমেন্ট নিন সবচেয়ে সেরা ৮টি উপায়ে
তাছাড়া যারা বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন না তারা অতি সহজেই বাটন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিকাশে টাকা দেখতে পারেন। বাটন ফোনে বিকাশে টাকা দেখার নিয়ম জানতে নিচের ধাপগুলো পড়ুন।
- আপনি যদি বাটন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে বাটন মোবাইল ফোনের ডায়াল পেডে *247# কোডটি ডায়াল করতে হবে।
- আর মনে রাখবেন যে নাম্বারটি দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলা রয়েছে সেই নাম্বার দিয়েই উক্ত কোডটি ডায়াল করবেন।
- কোড ডায়াল করার পর কিছুক্ষণ পর অনেক ধরনের অপশন দেখতে পারবেন, সেখান থেকে আপনি 9 ক্লিক করবেন। এই অপশনে My bkash লেখা রয়েছে।
- এরপর আরো অনেকগুলো অপশন আপনার সামনে আসবে। সেখান থেকে Check Balance নামে একটি অপশন রয়েছে যেটি মূলত ১ নম্বরে রয়েছে। তাই আপনি এখন 1 নম্বর অপশনটিতে ক্লিক করবেন।
- এবার আপনার সামনে বিকাশ একাউন্টের পিন নাম্বার চাইবে। যেখানে আপনাকে সঠিক পিন নাম্বার বসাতে হবে।
- সঠিক পিন নাম্বার দেওয়া হয়ে গেলে ওকে বাটনে ক্লিক করলেই আপনার বিকাশ একাউন্টে কত টাকা রয়েছে তা দেখাবে। মূলত আপনার বিকাশ একাউন্ট এর ব্যালেন্স দেখতে পারবেন।
এই উপায়টি শুধুমাত্র যারা বাটন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তারা ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া ও যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তারা মাই বিকাশ এপ্লিকেশন ব্যবহার করে অতি সহজেই একাউন্টের ব্যালেন্স দেখতে পারবেন।
তাই আমি মনে করি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা দেখবেন। তবে আপনার স্মার্টফোনে যদি ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে তাহলে আপনি এই কোড ডায়াল পদ্ধতিতেও বিকাশ একাউন্টের টাকা দেখতে পারবেন।
বাটন ফোনে বিকাশে টাকা দেখার সুবিধা
বাটন ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য USSD মেনু অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত। এর কিছু সুবিধা নিচে দেওয়া হলোঃ
- স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট লাগবে না
- নেটওয়ার্ক থাকলেই যেকোনো জায়গা থেকে টাকা দেখা যায়
- ব্যালেন্স চেক, ক্যাশ আউট, সেন্ড মানি সবই করা যায়
- সিকিউরিটি পিন ব্যবহারের কারণে নিরাপদ
বাটন ফোনে বিকাশে টাকা চেক করতে সমস্যা হলে করণীয়
যদি *247# ডায়াল করার পরও মেনু না আসে বা ব্যালেন্স দেখা না যায়, তাহলে
- সিমে পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক আছে কিনা চেক করুন
- বিকাশ অ্যাকাউন্টে সঠিক সিম ব্যবহার করছেন কিনা দেখুন
- পিন ভুল দিলে পুনরায় সঠিক পিন দিন
- প্রয়োজন হলে 16247 নম্বরে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে কল করুন
বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম
বিকাশ একাউন্ট সাধারণত দুইভাবে খোলা যায়। প্রথমত আপনি সরাসরি কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন। তাছাড়া আরেকটি পদ্ধতিতে ঘরে বসে অনলাইন এর মাধ্যমে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়।
সেটি হল my bikash অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে অনলাইনে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন। আমরা এখন অনলাইনের মাধ্যমে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম গুলো আলোচনা করব।
- অনলাইনের মাধ্যমে বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে আপনার মোবাইল ফোনে বিকাশ অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে নিবেন। বিকাশ অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার জন্য গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে bkash লিখে সার্চ করবেন।
- বিকাশ অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল হয়ে যাওয়ার পর অ্যাপটি ওপেন করুন। বিকাশ অ্যাপ ওপেন করার পর আপনার সামনে দুটি অপশন আসবে।
- প্রথমত নতুন বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য অপশন দেখতে পাবেন। আর আগের অ্যাকাউন্ট লগইন করার অপশন দেখতে পারবেন।
- আপনারা যেহেতু নতুন একাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন তাহলে সে ক্ষেত্রে নিউ রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করবেন।
- এবার আপনার সামনে মোবাইল নাম্বার চাইবে। আপনি যে মোবাইল নাম্বারে বিকাশ একাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন সেই মোবাইল নাম্বারটি লিখবেন। তারপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন।
- এরপর আপনার ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী পুরো নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ এবং আইডি কার্ডের নাম্বার সাবমিট করুন।
- এখন আপনার মুখ ভেরিফিকেশন করার জন্য সেলফি নিতে বলবে। এজন্য আপনি স্ক্রিনে প্রদর্শিত নিয়ম অনুযায়ী নিজের একটি সেলফি নিবেন।
- আপনাকে এখন ৮ ডিজিটের বিকাশ পিন নম্বর সেট করতে বলা হবে, এই পিন নম্বর দিয়ে আপনি অ্যাকাউন্ট লগইন করতে পারবেন। এজন্য সঠিকভাবে মনে রাখতে পারেন এমন ধরনের পিন নাম্বার দিবেন।
- পিন নাম্বার দেওয়া হয়ে গেলে সাবমিট অপশন এ ক্লিক করবেন। এরপর কিছুক্ষণ আপনার একাউন্ট রিভিউ অপশনে থাকবে।
- সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কিছুক্ষণ পর আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে। এরপর থেকে আপনি বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করতে পারবেন।
বাটন মোবাইলে বিকাশ খোলার নিয়ম
আপনাদের মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা বাটন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিকাশ একাউন্ট খুলতে চায়। কিন্তু তারা বাটন মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম জানে না।
তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা বাটন মোবাইল ফোনে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম গুলো আলোচনা করব। এতে করে যাদের বাটন মোবাইল ফোন রয়েছে তারা সহজেই বিকাশ একাউন্ট খুলে বাটন মোবাইলে বিকাশ ব্যবহার করতে পারবেন।
বাটন মোবাইল ফোনের বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য *247# কোড ডায়াল করতে হবে। কিন্তু কোডটি ডায়াল করার পর আপনাকে বিকাশ অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে বলবে
যা মূলত বাটন মোবাইল ফোনে করা সম্ভব নয়। বর্তমানে আর বাটন মোবাইল ফোনে সরাসরি কোড ডায়াল করে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায় না।
অনেক আগে কোড ডায়াল করেই বিকাশ একাউন্ট খোলা যেত। কিন্তু সেই পদ্ধতি এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আপনারা চিন্তিত হবেন না,
যাদের বাটন মোবাইল ফোন হয়েছে তাদের জন্য আমরা বাটন মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট খোলার নতুন নিয়ম তুলে ধরার চেষ্টা করব।
এই নিয়ম অনুযায়ী আপনারা বাটন মোবাইলেও bkash একাউন্ট সরাসরি খুলতে পারবেন। নিম্নে নিয়ম গুলো আলোচনা করা হলোঃ
- বাটন মোবাইল ফোনে বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজন হবে নিজের ভোটার আইডি কার্ড, দুই কপি নিজের ছবি। তাছাড়া যে নম্বরটিতে আপনি বিকাশ একাউন্ট খুলতে চান সেই নম্বর সহ বাটন মোবাইল ফোন প্রয়োজন হবে।
- এবার আপনি নিজের জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড এবং ছবি নিয়ে কাস্টমার কেয়ারে যাবেন।
- কাস্টমার কেয়ারে অবশ্যই আপনার যে নাম্বারে বিকাশ একাউন্ট খুলবেন সেই নম্বর সহ মোবাইল ফোনটি নিয়ে যাবেন।
- এরপর বিকাশ কাস্টমার কেয়ার আপনার কাছে সকল ধরনের তথ্য চাইবে। আপনি সকল ধরনের তথ্যগুলো জমা দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন।
- বিকাশ কাস্টমার কেয়ার আপনার সকল তথ্যগুলো ভেরিফাই করে কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার বিকাশ একাউন্ট খুলে দিবে। আপনারা হয়তো জানেন বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য পিন নাম্বার দিতে হয়। পিন নাম্বার ভালোভাবে দিবেন।
- এরপর আপনি বিকাশ একাউন্টটি বাটন মোবাইল ফোনে ব্যবহার করতে পারবেন।
এভাবে আপনারা বাটন মোবাইল ফোনে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারেন। বিকাশ কাস্টমার কেয়ার ছাড়া বাটন মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবেন না।
তাই আপনি যদি বাটন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য উপরের দেওয়া প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে চলে যাবেন। তারাই আপনাকে অ্যাকাউন্ট ওপেন করে দিবে।
বিকাশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
আপনারা অনেকেই বিকাশে টাকা পাঠানোর নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান। সাধারণত বিকাশে দুটি পদ্ধতিতে টাকা পাঠানো যায়। আপনি বিকাশে টাকা লেনদেন করার জন্য দুইটি উপায়ে অবলম্বন করতে পারেন।
প্রথমত বিকাশ কোড ডায়াল করে টাকা পাঠাতে পারেন। আর দ্বিতীয়ত বিকাশ এপ্লিকেশন ব্যবহার করে অতি সহজেই টাকা আদান প্রদান করতে পারেন।
বিকাশের এপস ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর নিয়মঃ
- প্রথমেই মোবাইল ফোনে বিকাশ অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিবেন। তারপর আপনার একাউন্টে লগইন করবেন।
- অ্যাকাউন্ট লগইন করা হয়ে গেলে সেন্ড মানি নামক অপশন পাবেন সেটিতে ক্লিক করবেন।
- উক্ত অপশন এ ক্লিক করার পর নাম্বার দিতে বলবে অর্থাৎ যে নাম্বারে টাকা পাঠাবেন সেই নাম্বারটি লিখবেন।
- নাম্বার লেখার পর এরো বাটনে ক্লিক করবেন। এবার আপনার সামনে টাকার পরিমাণ লিখতে বলবে। আপনি যত টাকা পাঠাবেন তার পরিমাণ লিখবেন।
- এখন আপনার সামনে পিন নাম্বার চাইবে। একাউন্টের পিন নাম্বার দিয়ে ট্যাপ করে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ পর কাঙ্খিত নাম্বারে টাকা চলে যাবে।
বিকাশে টাকা পাঠানোর খরচ কত
বর্তমানে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতি মাসে পাঁচটি প্রিয় নাম্বার অ্যাড করে ফ্রিতেই টাকা পাঠাতে পারবেন। প্রিয় নাম্বার এড করার মাধ্যমে কোনরকম চার্জ ছাড়াই সেন্ড মানি করা যায়।
তবে প্রতি মাসে প্রিয় নম্বরে আপনি শুধুমাত্র ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি ফ্রিতে করতে পারবেন। বিকাশ একাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করতে প্রতি হাজারে খরচ হয় ১৮.৫০ টাকা।
উপসংহার
এখন আর বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স চেক করার জন্য স্মার্টফোনের দরকার হয় না। স্মার্টফোন না থাকলেও আপনি সরাসরি বিকাশের নির্দিষ্ট ইউএসডি কোড ডায়াল করে বিকাশ একাউন্ট এর ব্যালেন্স চেক করতে পারেন।
ইতিমধ্যে আমরা বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম ধাপে ধাপে জানিয়ে দিয়েছি। যার ফলে এখন আপনারা বাটন ফোনেই বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স দেখতে পাবেন।
অনেক সময় স্মার্ট ফোনেও ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না, সে ক্ষেত্রে পদ্ধতিতে ব্যালেন্স চেক করা যায়। তাই আপনারা অন্যদের এ পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে আর্টিকেলটি শেয়ার করে রাখতে পারেন।
আমি একজন অভিজ্ঞ ব্লগার ও ডিজিটাল মার্কেটার। প্রযুক্তি, টেকনোলজি, অনলাইন ইনকাম ও ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে লেখালেখি করি। পাঠকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সহজ ভাষায় উপস্থাপন এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের ভিত্তিতে সহায়ক গাইড তৈরি করাই আমার লক্ষ্য। প্রতিটি কনটেন্টে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও পাঠকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করি।







ভালো