বর্তমান সময়ে অ্যাপস বানিয়েই বিভিন্ন মাধ্যমে ইনকাম করা যায়। অনেকেই হয়তো এই বিষয় সম্পর্কে জানেন না।
আর এজন্যই আমরা এপস তৈরি করে ইনকাম করার সেরা উপায় গুলো সম্পর্কে আজকে আর্টিকেলে বিস্তারিত জানাবো।
যারা অ্যাপস তৈরি করতে জানেন, তারা সহজ কিছু উপায় অনুসরণ করেই অনলাইন থেকে আনলিমিটেড ইনকাম শুরু করতে পারবেন। অনলাইনে ইনকাম করা কঠিন কিছু নয়, আবার সোজাও নয়।
তবে সঠিক পদ্ধতিতে কাজ করলে ইনকাম করা সম্ভব হয়। যারা অ্যাপস তৈরি করতে জানেন এবং কোডিং সম্পর্কে ভালো দক্ষতা রয়েছে, তারা আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
কেননা আমরা এমন কিছু উপায় শেয়ার করব, যেগুলো হয়তো আপনার অ্যাপস তৈরি করে ইনকাম করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। চলুন এবার সকল কিছু বিস্তারিত দেখে আসি।
এপস তৈরি করে ইনকাম করা কি সম্ভব?
বর্তমান সময়ে একটি ভালো মোবাইল অ্যাপ শুধুমাত্র ব্যবহারকারীদের সমস্যা সমাধানই করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎসও হতে পারে।
আপনি যদি নিজের একটি অ্যান্ড্রয়েড বা iOS অ্যাপ তৈরি করতে পারেন, তাহলে বিজ্ঞাপন, সাবস্ক্রিপশন, ইন-অ্যাপ পারচেজ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংসহ বিভিন্ন উপায়ে নিয়মিত আয় করা সম্ভব।
মূল কথা বর্তমান সময়ে অ্যাপস তৈরি করে ইনকাম করা যায়। যদি আপনার প্রোগ্রামিং এবং কোডিং করার অভিজ্ঞতা ,দক্ষতা থাকে তাহলেই আপনি অ্যাপস তৈরি করার মাধ্যমে ইনকাম করতে সক্ষম হবেন।
তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে শুধু অ্যাপ তৈরি করলেই আয় হবে না। আপনার অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যকর, দ্রুত, নিরাপদ এবং নিয়মিত আপডেট হওয়া জরুরি।
অবশ্যই দেখুনঃ ঘরে বসে আয় করুন ১৫০০০ ২০০০০ টাকা প্রতি মাসে
সর্বশেষে বলবো অ্যাপস তৈরি করে ইনকাম করা সম্ভব, যদি আপনি সঠিক উপায় অনুসরণ করেন। অনেকেই অ্যাপস বানিয়ে থাকে কিন্তু ইনকাম করতে পারেনা।
এর পিছনে কিছু কারণ রয়েছে, মূলত তারা সঠিক উপায় জেনে না থাকার কারণে অ্যাপস বানিয়েও ইনকামের পর্যায়ে যেতে পারে না।
আমরা এমন কিছু গোপন উপায় ও টিপস জানাবো যেগুলো হয়তো ইনকামের ক্ষেত্রে আপনার অনেক কাজে লাগবে।
এপস তৈরি করে ইনকাম করার জন্য কী কী প্রয়োজন হবে?
অ্যাপস তৈরি করে ইনকাম করার জন্য কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। এগুলো ছাড়া কখনই অ্যাপ তৈরি করে উপার্জন করতে পারবেন না। এজন্য অ্যাপ থেকে আয় শুরু করতে নিচের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিন।
- সর্বপ্রথম একটি ভালো অ্যাপ আইডিয়া খুঁজুন।
- Android Studio, Flutter বা React Native সম্পর্কে ধারণা নিন
- Google Play Developer Account খুলুন
- প্রয়োজনে Apple Developer Account খুলতে পারেন।
- AdMob বা অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা নিন এবং একাউন্ট খুলুন।
- নিয়মিত অ্যাপ আপডেট ও মার্কেটিং করতে থাকুন।
উপরোক্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিলেই আপনি অ্যাপস বানিয়ে অনলাইন আর্নিং করতে পারবেন। সর্বপ্রথম অ্যাপস তৈরির ভালো আইডিয়া খুঁজে বের করতে হবে।
মূলত কোন ধরনের অ্যাপস মানুষজন বেশি ব্যবহার করে, এমন টাইপের অ্যাপস বানান। পাশাপাশি নিয়মিত অ্যাপ আপডেট করুন এবং অ্যাপ এর প্রচার করতে থাকুন।
অ্যাপের মার্কেটিং না করলে কখনোই আপনি সফল হতে পারবেন না। একমাত্র মার্কেটিং করার মাধ্যমে আপনি অ্যাপটি সম্পর্কে গ্রাহকদের জানাতে পারবেন।
এপস তৈরি করে ইনকাম করার সেরা ১০টি উপায়
অ্যাপস বানিয়ে ইনকাম করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে, এর মধ্যে থেকে আমরা কয়েকটি সেরা উপায় খুঁজে বের করেছি। আর এই উপায় গুলো সম্পর্কে এখন আপনাদের জানাবো।
সর্বপ্রথম জেনে রাখুন অ্যাপস তৈরি করে ইনকাম করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে নলেজ থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যাপস কিভাবে পাবলিশ করতে হয় এবং অ্যাপ তৈরি করার নিয়ম জানতে হবে।
পাশাপাশি অ্যাপস কাস্টমাইজেশন করার ধারনা থাকা লাগবে। আর ইনকামের উপায় গুলো জানতে পারলেই অ্যাপস পাবলিশ করে দীর্ঘদিন ধরে আয় করতে পারবেন।
প্রথম দিকে হয়তো অ্যাপ পাবলিশ করে ডেইলি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করতে পারবেন। তবে ধীরে ধীরে অ্যাপ এর পরিচিতি বাড়তে থাকলে আরো বেশি আয় হবে। চলুন এবার নিম্নে সেরা কয়েকটি উপায় দেখে আসি, যা অনুসরণ করে অ্যাপ থেকে আয় করা যাবে।
১. Google AdMob বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয়
অ্যাপ থেকে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো Google AdMob।এখানে আপনার অ্যাপে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়।
যখন ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপন দেখবে বা নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে, তখন আপনি আয় করবেন। এভাবে সাধারণত অ্যাপসে মনিটাইজেশন নিয়ে বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে আয় করা যায়।
গুগল অ্যাড মব আপনার অ্যাপসে অনেক টাইপের বিজ্ঞাপন দেখাবে। যখন কোন ভিজিটর অ্যাপ ব্যবহার করার সময় বিজ্ঞাপনটি দেখবে, তখন আপনি নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন এবং আপনার ইনকাম হবে।
প্রচুর ভিজিটর বা গ্রাহক থাকলে অনেক বেশি আয় হয়। আমার জানামতে একজন অ্যাপস ডেভলপার প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করে থাকে।

যদি আপনার অ্যাপস জনপ্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ ডলার এর বেশি ইনকাম হতে পারে। সাধারণত কান্ট্রি অনুযায়ী অনেক সময়ই ইনকাম কম বেশি হয়।
তবে গ্রাহক সংখ্যা এবং ইউজার সংখ্যা বেশি থাকলে ইনকামের পরিমাণ বহু গুণে বেড়ে যায়। যারা সর্বপ্রথম অ্যাপস তৈরি করবেন, তারা এই পদ্ধতিতে মনিটাইজেশন নিয়ে apps থেকে আয় করতে পারবেন।
অ্যাপস বানিয়ে এভাবে অনেক টাকা উপার্জন করা সম্ভব। তাই এপস তৈরি করে ইনকাম করার জন্য Google AdMob ব্যবহার করুন।
২. ইন-অ্যাপ পারচেজ (In-App Purchase)
অনেক অ্যাপ বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও অতিরিক্ত ফিচার ব্যবহারের জন্য টাকা দিতে হয়। আর এই মাধ্যমকে ইন-অ্যাপ পারচেজ বলা হয়।
এই উপায়ে অ্যাপস বানিয়ে বা তৈরি করে সহজেই আয় করা যায়। আর এখানে অনেক বেশি ইনকামের সুযোগ থাকে। আপনার অ্যাপ প্রিমিয়াম ফিচার যুক্ত করুন।
আর প্রিমিয়াম ফিচার অ্যাক্সেস করার জন্য নির্দিষ্ট ফি সিস্টেম চালু করুন। এতে করে ইউজাররা প্রিমিয়াম ফিচার নেওয়ার জন্য ইন-অ্যাপ পারচেজ করবে।
আর আপনি সেখান থেকে আয় করতে পারবেন। যদি আপনার অ্যাপে সত্যিই ভালো মানের প্রিমিয়াম সার্ভিস বা ফিচার যুক্ত করতে পারেন,
তাহলে এই উপায়ে দীর্ঘদিন ধরে আনলিমিটেড ইনকাম করা সম্ভব। এজন্য ভালোভাবে অ্যাপস তৈরি করুন এবং সঠিক আইডিয়া নিয়ে অ্যাপস ডিজাইন করুন।
অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, কোন ধরনের প্রিমিয়াম ফিচার যুক্ত করব। আপনি বিভিন্ন টাইপের প্রিমিয়াম ফিচার বা সার্ভিস যুক্ত করতে পারেন। যেমনঃ
- Premium Theme
- Extra Storage
- Advanced Features
- Coins বা Gems
এই পদ্ধতিতে অনেক জনপ্রিয় অ্যাপ লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করে থাকে। বিশেষ করে গেমিং অ্যাপ গুলোতে এই পদ্ধতিতে প্রচুর আয় হয়।
৩. সাবস্ক্রিপশন মডেল
যদি আপনার অ্যাপে নিয়মিত নতুন কনটেন্ট থাকে, তাহলে মাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন চালু করতে পারেন।
এই উপায়ে সাধারণত ভিডিও কনটেন্ট application দিয়ে ইনকাম করা যায়। আপনি এমন একটি অ্যাপ তৈরি করলেন, যেখানে আকর্ষণীয় ভিডিও আপলোড করেন।
আর সেই ভিডিও দেখার জন্য অ্যাপ এর সাবস্ক্রিপশন প্যাক কিনতে হয়। এর ফলে আপনি এই উপায়ে শুরু করতে পারবেন।
ইউজাররা আপনার অ্যাপের প্রিমিয়াম ভিডিও গুলো দেখার জন্য সাবস্ক্রাইপশন প্যাক কিনবে, আর এভাবেই আপনি এপস তৈরি করে ইনকাম করতে পারবেন।
৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাপের ভেতরে বিভিন্ন পণ্য বা সার্ভিসের অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করতে পারেন।যখন কেউ আপনার লিংক ব্যবহার করে কোনো পণ্য কিনবে, তখন আপনি কমিশন পাবেন।
তবে নিজস্ব অ্যাপ থাকলে, সেখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও উপার্জন করা যায়। তবে অ্যাপ এ প্রচুর ব্যবহারকারী বা ভিজিটর থাকতে হবে।
তাহলে এই উপায়ে মার্কেটিং করে অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন। আপনি অ্যাপের বিভিন্ন সেকশনে মার্কেটিং লিংক ব্যবহার করতে পারেন।
যেখানে ইউজাররা লিংকটিতে ক্লিক করে প্রোডাক্ট ক্রয় করলেই আপনি কমিশন পাবেন। সাধারণত ই-কমার্স অ্যাপ গুলোতে এই উপায়ে আয় করা যায়।
তাই ই-কমার্স টাইপের অ্যাপ তৈরি করুন। আরও অনেক টাইপের অ্যাপস রয়েছে, যেখানে এই পদ্ধতিতে বেশি ইনকামের সুযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপঃ
- শপিং অ্যাপ
- টেক অ্যাপ
- ফাইন্যান্স অ্যাপ
- ট্রাভেল অ্যাপ
৫. প্রিমিয়াম ভার্সন বিক্রি
অ্যাপস তৈরি করে সেখানে একটি ফ্রি এবং প্রিমিয়াম ভার্সন রাখতে পারেন। ফ্রিতে সাধারণত লিমিটেড সার্ভিস থাকবে। আর প্রিমিয়াম ভার্সনে অতিরিক্ত ফিচার এবং আকর্ষণীয় কিছু সার্ভিস থাকবে।
যার ফলে গ্রাহকরা আপনার অ্যাপের অতিরিক্ত বা আকর্ষণীয় ফিচার উপভোগ করার জন্য প্রিমিয়াম ভার্সনটি ক্রয় করতে পারে।
এতে করে আপনি এই উপায়ে প্রিমিয়াম ভার্সন অ্যাপ বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। প্রিমিয়াম ভার্সনে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকতে পারে যেমনঃ
- বিজ্ঞাপনমুক্ত ব্যবহার
- অতিরিক্ত টুল
- Premium Support
- নতুন ফিচার
আর ফ্রি ভার্সন এপটিতে সীমিত সুবিধা থাকবে। যার ফলে প্রিমিয়াম ভার্সন বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে প্রথমদিকে প্রিমিয়াম ফিচারগুলো ফ্রি ভার্সনে দেওয়ার চেষ্টা করবেন, যাতে করে ইউজাররা বুঝতে পারে প্রিমিয়াম ভার্সনের সুবিধা কেমন।
৬. স্পন্সরশিপ
যখন আপনার অ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়বে, তখন বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ব্র্যান্ড প্রচারের জন্য আপনার সঙ্গে কাজ করতে পারে।
এতে ভালো পরিমাণ আয় করা সম্ভব। আপনি শুধুমাত্র বিভিন্ন ব্যান্ডের প্রোডাক্ট বা পণ্যর প্রমোশন করে দিবেন। এভাবে এককালীন ভালো পরিমান ইনকাম করা এই উপায়েযায়।
সাধারণত প্রতি প্রমোশনে বা স্পন্সরশীপে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা চার্জ করা যায়। আপনার অ্যাপের ভিজিটর ও ব্যবহারকারী সংখ্যার উপর নির্ভর করে ফি চার্জ করতে পারবেন। এভাবে এই সহজ উপায়টিতে এপস তৈরি করে ইনকাম করা সম্ভব
৭. নিজের পণ্য বা সার্ভিস বিক্রি
আপনার যদি অফলাইনে কোন ব্যবসা চালু থাকে বা ব্যবসা করে থাকেন। তাহলে সেগুলো অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার করতে পারেন এবং ব্যবসার প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন।
এভাবে কিন্তু অ্যাপস থেকে ভালো পরিমাণ প্রোডাক্টের অর্ডার পাওয়া যায়। ভালোভাবে প্রচার করতে জানলে apps এর মাধ্যমেই প্রচুর পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।
এভাবে লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ী বর্তমানে অ্যাপস ব্যবহার করে নিজের ব্যবসার প্রোডাক্ট বিক্রি করার মাধ্যমে প্রচুর টাকা ইনকাম করছে। তাই আপনারা এই উপায়ে ইনকাম করতে পারেন।
৮. অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস বিক্রি
নিজের তৈরি অ্যাপ দেখিয়ে ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেন।এরপর অন্যদের জন্য কাস্টম অ্যাপ তৈরি করে ভালো আয় করা যায়।
বিশেষ করে Fiverr, Upwork এবং Freelancer-এর মতো মার্কেটপ্লেসে এর চাহিদা অনেক বেশি। মূলত আপনি ফ্রিল্যান্সিং সহ লোকাল মার্কেটপ্লেসে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস প্রদান করতে পারেন।
অ্যাপ তৈরি করে দেওয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি চার্জ করবেন। এভাবে অ্যাপ তৈরি করার সার্ভিস দিয়েও অনলাইন সহ অফলাইনে উপার্জন করা যায়।
ক্লাইন্ট পাওয়ার জন্য প্রথমে অ্যাপের ডিজাইন ও ফিচার সমূহ আকর্ষণীয় ভাবে ডিজাইন করুন এবং ক্লাইন্টকে দেখান। এভাবে ক্লায়েন্ট পাওয়া সম্ভব।
পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস একাউন্ট খুলুন এবং নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিন। মূল কথা প্রোফাইলে আপনার নমুনা অ্যাপ সম্পর্কে সকলকে জানান।
৯. API বা SaaS সংযুক্ত করে আয়
বর্তমানে অনেক অ্যাপ AI, Cloud Storage, Payment Gateway বা Automation API ব্যবহার করে।আপনি নিজের API তৈরি করে অন্য ডেভেলপারদের ব্যবহারের সুযোগ দিলে,
সেখান থেকেও নিয়মিত আয় করতে পারবেন। এই মাধ্যমে ইনকাম করা একটু কঠিন, তবে আপনার পরিপূর্ণ ধারণা থাকলে আয় করতে পারবেন।
১০. অ্যাপ বিক্রি করে আয়
যদি আপনার অ্যাপ জনপ্রিয় হয়ে যায়, তাহলে সেটি অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারেন। এই উপায়ে কিন্তু এপস তৈরি করে ইনকাম খুবই সহজ ইনকাম করা যায়।
আপনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অ্যাপস তৈরি করবেন, আর অ্যাপসগুলো এমন ভাবে তৈরি করবেন। যেগুলো সাধারণত মার্কেটপ্লেস সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা যায়।
সঠিকভাবে অ্যাপস তৈরি করতে পারলে এবং ভালো মানের অ্যাপস বানালে এই উপায়ে ভালো পরিমান ইনকাম করা যায়।
সাধারণত প্রতিটি অ্যাপস বিক্রি করে ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকার পর্যন্ত আয়ের সম্ভাবনা থাকে। মূলত অ্যাপের জনপ্রিয়তা এবং অ্যাপের ফিচারের উপর নির্ভর করে দাম কম বেশি হয়।
কোন ধরনের অ্যাপ বানিয়ে বেশি ইনকাম করা যায়?
অনেক ক্যাটাগরির অ্যাপস রয়েছে, যেগুলো বানালে বেশি ইনকামের সুযোগ থাকে। আর বর্তমান যুগে ওই সব অ্যাপসগুলোর চাহিদা খুবই বেশি।
তবে আমার জানা মতে বর্তমানে গেমিং অ্যাপ গুলোর চাহিদা প্রচুর রয়েছে, আর গেমিং অ্যাপ থেকে অনেক বেশি ইনকাম করা যায়। এবার চলুন নিম্নে বেশি চাহিদা সম্পন্ন অ্যাপস গুলো সম্পর্কে জেনে আসি।
- AI Tool App
- শিক্ষা বিষয়ক অ্যাপ
- স্বাস্থ্য ও ফিটনেস অ্যাপ
- ফাইন্যান্স অ্যাপ
- Productivity App
- Notebook app
- QR Scanner App
- File Manager App
- VPN App
- Photo Editor App
অ্যাপ তৈরি করার জন্য জনপ্রিয় প্রযুক্তি
আপনি চাইলে নিচের প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ব্যবহার করে সহজেই অ্যাপস তৈরি করা যায়।
- Flutter
- React Native
- Kotlin
- Java
- Swift
- Android Studio
- Firebase
যারা নতুন, তাদের জন্য Flutter শেখা তুলনামূলক সহজ এবং একই কোড থেকে Android ও iPhone দুই প্ল্যাটফর্মের জন্য অ্যাপ তৈরি করা যায়।
এপস তৈরি করে আয় বাড়ানোর কার্যকর টিপস
- ব্যবহারকারীর সমস্যার সমাধান করে এমন অ্যাপ তৈরি করুন।
- অ্যাপের গতি ও নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব দিন।
- নিয়মিত নতুন ফিচার যোগ করুন।
- Google Play Store-এর SEO (ASO) অনুসরণ করুন।
- ভালো আইকন, স্ক্রিনশট ও বর্ণনা ব্যবহার করুন।
- ব্যবহারকারীদের রিভিউ ও রেটিং সংগ্রহ করুন।
- সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাপ প্রচার করুন।
- ক্র্যাশ ও বাগ দ্রুত ঠিক করুন।
এপস তৈরি করে কত টাকা আয় করা যায়?
মূলত আয়ের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। এটি নির্ভর করে
- ব্যবহারকারীর সংখ্যা
- দেশভিত্তিক ট্রাফিক
- বিজ্ঞাপনের মান
- সাবস্ক্রিপশন বিক্রি
- ইন-অ্যাপ পারচেজ
- অ্যাপের জনপ্রিয়তা
কেউ মাসে কয়েক হাজার টাকা আয় করেন, আবার সফল অ্যাপ ডেভেলপাররা লাখ থেকে কোটি টাকাও আয় করতে পারেন। তাই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবহারকারী বাড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহারঃ শেষ কথা
এপস তৈরি করে ইনকাম করা খুবই সহজ, যদি আপনি ধৈর্য সহকারে আজকের দেখানো উপায় গুলো অনুসরণ করে কাজ করেন।
তবে সফল হতে হলে শুধু অ্যাপ প্রকাশ করলেই হবে না, ব্যবহারকারীর চাহিদা বুঝে মানসম্মত অ্যাপ তৈরি, নিয়মিত আপডেট, সঠিক ASO এবং কার্যকর মার্কেটিং করতে হবে।
আর বিজ্ঞাপন, সাবস্ক্রিপশন, ইন-অ্যাপ পারচেজ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও নিজস্ব পণ্য বিক্রির মতো একাধিক আয়ের উৎস একসঙ্গে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো আয় করা সম্ভব। আজ এই পর্যন্ত শেষ করছি। ভালো থাকবেন, দেখা হবে নতুন একটি ইনকামের আইডিয়া নিয়ে।
ovi khan একজন প্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট রাইটার এবং TrickTopic-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রযুক্তি, AI, ব্লগিং, SEO, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন আয় এবং সফটওয়্যার বিষয়ক নির্ভরযোগ্য, সহজবোধ্য ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট প্রকাশ করেন।




